বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আবহাওয়া ও প্রেসিডেন্ট হিসেবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তন বৈশ্বিক সরবরাহ চেইনে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। এর প্রভাব পড়বে মার্কিন শস্য, তেলবীজ ও ভোজ্য তেলের বাজারেও। খবর ওয়ার্ল্ড গ্রেইন।
প্রতিবেদনে বলা হচ্ছে, সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের শীতকালীন গম উৎপাদন ভালো অবস্থায় রয়েছে। তবে উত্তরাঞ্চলের কৃষিভূমি কিছুটা সমস্যায় ভুগছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৫ সালের জন্য গমের মজুদ হবে ৮১ কোটি ৫ লাখ বুশেল। এর মধ্যে সফট হুইটের চাষ ৫-৬ ও শীতকালীন হার্ড রেড হুইটের চাষ ১-২ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে শক্তিশালী ডলার ও রাশিয়ার অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে মার্কিন গম রফতানি প্রতিযোগিতা করার অবস্থায় থাকবে না। পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) গমের দাম স্থিতিশীল থাকবে। এ সময় ক্রেতা চাহিদা ও রফতানি প্রবণতার ওপর নির্ভর করে দাম সামান্য ওঠানামা করতে পারে।
এদিকে ২০২৪ সালে সয়াবিনের ফলন সম্পর্কে ইউএসডিএ পূর্বাভাস কমিয়ে ৪৪৬ কোটি ১০ লাখ বুশেল করেছে। ফলন হ্রাস সত্ত্বেও প্রায় রেকর্ড পর্যায়ে রয়েছে। তবে চীনের ওপর প্রস্তাবিত শুল্ক নতুন করে বাণিজ্য উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে। ফলে সয়াবিনের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের রফতানি কমে যেতে পারে এবং ব্রাজিলের আধিপত্য বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা আশা করছেন, ২০২৫ সালের শুরুর দিকে বুশেলপ্রতি সয়াবিনের দাম ৯ ডলার ৭৫ সেন্ট থেকে ১০ ডলার ২৫ সেন্টের মধ্যে থাকবে, যা সয়াবিন তেলের চাহিদা ও বায়োফুয়েল নীতির পরিবর্তনে প্রভাবিত হতে পারে।
ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুসারে, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ভুট্টার মজুদ ১৯৩ কোটি ৮০ লাখ বুশেলে পৌঁছতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মেক্সিকো ও চীনের সঙ্গে সম্ভাব্য বাণিজ্য বিরোধ ভুট্টা রফতানিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। দুর্বল লা নিনার কারণে দক্ষিণ আমেরিকার ভুট্টার উৎপাদনে বড় প্রভাব পড়ার আশঙ্কা কম। বছরের মাঝামাঝিতে মার্কিন ভুট্টার দাম বুশেলপ্রতি ৪ ডলার ২৫ সেন্ট থেকে সাড়ে ৪ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে, যা নির্ভর করছে সরবরাহ ও চাহিদার ওপর।